গল্পসমূহ

শিশুদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন

ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী

এগারো বছর বয়সী শোভনের সাথে তার মার বেশ টানাপড়েন চলছে কারণ সে তার মায়ের কাছে একটি মোবাইল ফোনের আব্দার করেছে যা তার মা তাকে কিনে দিতে একেবারেই নারাজ পঞ্চম শ্রেণীর ছাত্র শোভনের যুক্তি হচ্ছে তার অনেক সহপাঠীরই নিজস্ব মোবাইল ফোন আছে। তাহলে তার কেন থাকবে না! অন্যদিকে তার মায়ের অভিযোগ হচ্ছে যে নিজের মোবাইল ফোন না থাকা সত্ত্বেও বাড়ির অন্য সবার মোবাইল ফোন নিয়ে দিনের অনেকটা সময় গেমস খেলে ও বন্ধুদের সাথে কথা বলে।

“তাহলে একবার ভেবে দেখুন, তাকে ফোন কিনে দিলে তার অবস্থাটা কি হবে? পড়ালেখা তো উচ্ছন্নে যাবেই, তাছাড়া শুনেছি অতিরিক্ত মোবাইল ব্যাবহার শিশুদের সাস্থের জন্যও ভালো না। তাই তাকে আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি,” বললেন শোভনের মা নাইমা রাহমান।

তবে দুঃখজনক হলেও সত্যি যে সব অভিভাবক নাইমা রহমানের মতো এতটা সচেতন নন। যেমন আরেকজন অভিভাবক জালালেন, “অতিরিক্ত মোবাইলের ব্যাবহার শিশুদের শরীরের জন্য ক্ষতিকারক কিনা জানিনা, তবে এটা নিশ্চিত যে এটা তাদের মনোযোগ ও সময় নষ্ট করে”।

যদিও এবিষয়ে এখনও উল্লেখযোগ্য কোন গবেষণা নাই, তবে বিভিন্ন সূত্রে কথা বলে জানা গেছে বাংলাদেশে ৭-১৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে একটা বিরাট অংশই মোবাইল ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলা ছাড়াও গেমস খেলে, বিভিন্ন ধরনের ভিডিও দেখে, গান শুনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যাবহার করে প্রচুর সময় কাটায়।

“শিশুরা বড়দের চেয়ে অনেক বেশি প্রযুক্তি-বান্ধব। তাই তারা তাদের অভিভাবকদের অনেক আগেই মোবাইল ফোনের বিবিধ ব্যাবহার শিখে যায়। প্রাথমিকভাবে বাবা-মারা এতে খুশি হলেও তারা অনেকসময়ই এটা অনুধাবন করতে পারেন না যে এই ব্যাবহারটা শিশুকে প্রশ্রয় দেয় এবং তারা ধীরে ধীরে মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্ত হয়ে যায়,” বলেন মনরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ এহসানুল কবির।

তিনি আরও বলেন মোবাইল ফোনের বিকিরন থেকে শিশুর মস্তিস্কের কোষের ক্ষতির সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যায় না। শিশুদের মস্তিস্কের আয়তন ছোট বলে একই পরিমান বিকিরন প্রাপ্তবয়স্কদের চেয়ে শিশুদেরই ক্ষতি করে বেশি।

মোবাইল প্রযুক্তির ব্যাবহারকে সামাজিক বাস্তবতা হিসাবে স্বীকার করে নিয়েই তিনি বলেন অভিভাবকদের উচিৎ শিশুদের অতিরিক্ত মোবাইল ও অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যাবহারকে নিয়ন্ত্রন করা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ জানান, “দীর্ঘক্ষণ মোবাইলের স্ক্রীনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে তাদের দৃষ্টি শক্তির যে ক্ষতি হচ্ছে তাতে কোনই সন্দেহ নাই। এমনকি যারা দীর্ঘক্ষণ হেডফোন ব্যাবহার করে সেসব শিশুর শ্রবণের ক্ষেত্রে সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক এবং তা হচ্ছেও”।

তিনি জানান যে ইদানীং অনেক অভিভাবকই তাদের সন্তানদের তীব্র মাথা ব্যাথা, চোখে ঝাপসা দেখা ও কোন কোন ক্ষেত্রে স্নায়বিক সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের দ্বারস্থ হচ্ছেন এবং এসব শিশুর অধিকাংশের সাথে কথা বললেই জানা যায় যে তারা দিনের একটা সিংহভাগ সময় মোবাইল বা অন্য কোন ডিজিটাল ডিভাইসে কাটায়।

 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: