গল্পসমূহ

শিশুর ডায়াবেটিস

ফারিয়া সেলিম

উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে দারিদ্র্যের কারণে বাংলাদেশের প্রচুর শিশু অপুষ্টিতে ভুগলেও, জীবনব্যাপী যে রোগগুলো শিশুদের জন্যে অনেক ক্ষেত্রেই প্রানঘাতি হয়ে দাড়ায় তার মধ্যে ডায়াবেটিস অন্যতম। আধুনিক যুগের এটি একটি উদীয়মান সঙ্কট যা অনেক ক্ষেত্রেই কম গুরুত্ব পায়। সংখ্যার দিক থেকে এর সঠিক পরিসংখ্যান না থাকলেও, বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশের প্রায় এক কোটি ডায়াবেটিস আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর মধ্যে শিশুদের সংখ্যাও কম নয় এবং তা দিনেদিনে বাড়ছে।

কারণ

শিশুদের খেত্রেও প্রাপ্তবয়স্কদের মতো ডায়াবেটিস অধিকাংশক্ষেত্রে জীনগত কারণে হয়। এছাড়া শিশুদের মধ্যে ডায়াবেটিস বাড়ার প্রধার কারণগুলো মধ্যে শিশুর পুষ্টিহীনতা, অস্বাস্থ্যকর জীবন যাপন, অযাচিত ওজন বৃদ্ধি এবং শিশুর জন্মের সময়ে মা এবং সন্তানের অপুষ্টি অন্যতম। এছাড়া হরমোনজনিত বিভিন্ন রোগ, ঘন ঘন ইনফেকশন, বিভিন্ন ভাইরাসের কারণে জ্বর, জন্মগত সিনড্রম, ডাউন সিনড্রম থ্যালাসেমিয়া, পুশিং সিনড্রমের কারণেও অনেক ক্ষেত্রে ডায়বেটিস হতে পারে।

ডায়াবেটিসের লক্ষণ

প্রাপ্তবয়স্কদের ডায়াবেটিস হলে সাধারনত যে লক্ষণগুলো প্রকাশ পায়, শিশুদের বেলায় অনেক্ষেত্রে তা একই রকম। ডায়াবেটিস হলে শিশু অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ে বা ঝিমিয়ে থাকে। শিশু বিভিন্ন রোগ সংক্রমণে বারংবার আক্রান্ত হয়। অনেক সময় শিশুরা চোখে কম দেখতে শুরু করে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়। পরিমাণ মতো খাবার খাওয়া সত্ত্বেও ওজন কমে যায়, পানির তৃষ্ণা বেড়ে যায়, ঘন ঘন প্রস্রাব করার প্রবণতা দেখা দেয়। এ লক্ষনগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে কারণ শিশুদের বেলায় দু’তিন সপ্তাহের মধ্যে এ রোগ জটিল আকার ধারন করতে পারে।

ডায়াবেটিস হলে কি করনীয়?

সব রোগের ক্ষেত্রেই প্রতিরোধ চিকিৎসার চেয়ে বেশী গুরুত্বপূর্ণ এবং ডায়াবেটিস এর ব্যাতিক্রম নয়। তাই একজন শিশু বিশেষজ্ঞের অভিমত অনুযায়ী “অধিকাংশ শিশুরাই আজকালে বাড়িতে বন্দী এবং ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট নিয়ে খেলায় ব্যাস্ত থাকে। যা স্বাস্থ্যকর নয়। আবার তাদের খাদ্যাভ্যাস লক্ষ্য করলে দেখা যায় তারা অনেক মিষ্টি জাতীয় খাবার, চকোলেট, ফাস্ট ফুড খায় এবং সেরকম শারীরিক পরিশ্রম করে না।” তিনি আরও বলেন “স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাদ্যগ্রহন এবং কায়িক পরিশ্রম ডায়াবেটিসের প্রকোপ থেকে শিশুদের রক্ষা করতে পারে। এর পাশাপাশি মা বাবদের তাদের সন্তানদেরকে অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে অনুৎসাহিত করতে হবে,তাদের শরীর চর্চায় উৎসাহী করতে হবে এবং একইসাথে হেলথ প্ল্যানারদের ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ওর নিয়ন্ত্রন করতে হবে।” কাজী নউশাদুন্নবি, বাংলাদেশ বিশেষায়িত হাসপাতাল।

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যার কোন নিরাময় নেই। তাই সঠিক ব্যাবস্থাপনাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে।

বড়দের মতো শিশুর ডায়াবেটিসে হলেও, তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে ওর তার সঠিক যত্ন নিতে হবে। তার সুগার মাপতে হবে এবং সেই সঙ্গে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ইনসুলিন নিতে হবে। একইসাথে শিশু যাতে কার্বোহাইড্রেট জাতীয় খাবার ও অন্যান্য খাবার সঠিক সময়ে ও পরিমান মতো খায়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে।

 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: