গল্পসমূহ

শিশুদের জীবনে একটি পার্থক্য তৈরির চেষ্টায় চলচ্চিত্র তারকা

ইফতিখার আহমেদ চৌধুরী

চলচ্চিত্রের কাল্পনিক পৃথিবী থেকে এটা অনেক দূরে। এটা বাস্তবের পৃথিবী, যেখানে সত্যি সত্যি ব্যথা ও দুর্ভোগের শিকার বাস্তবের শিশুদের সাহায্য করা হচ্ছিল, যাতে তারা তাদের ভীতিকর অভিজ্ঞতা কাটিয়ে উঠতে পারে।

এ ধরনের শিশুদের সঙ্গে কথা বলার সময় বাংলাদেশের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র তারকা ফেরদৌস আহমেদ কখনো কখনো অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন, আবার কখনো তিনি মজার কোনো বিষয়ে শিশুদের আনন্দ দেওয়ার চেষ্টা করেন।

সম্প্রতি চলচ্চিত্রের বহির্দৃশ্য ধারণের জন্য কক্সবাজারে আসা ফেরদৌস বলেন, “যখন আমি শুনলাম রোহিঙ্গা সংকটে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার, আমার মনে হয়েছে, তাদের কাছে আমার যাওয়া উচিত। পরে আমি এই শিশুদের সঙ্গে দেখা করার জন্য ইউনিসেফের সঙ্গে যোগাযোগ করি। শিশুদের জন্য সব সময়ই আমার হৃদয়ে একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। তাই আমি মনে করেছি আমার উপস্থিতি যদি সামান্যতম পার্থক্যও তৈরি করে, তবে তাদের মাঝে আমার যাওয়া উচিত।”

ছোট ও বড় পর্দায় সমানভাবে জনপ্রিয় এই অভিনেতা কুতুপালংয়ে ইউনিসেফের সহায়তাপ্রাপ্ত শিশুবান্ধব কেন্দ্রে (সিএফএস) শিশুদের সঙ্গে দারুণ কিছু মুহূর্ত কাটান। রোহিঙ্গা শিশুদের মানসিক সেবা প্রদানে বর্তমানে যে ৪২টি সিএফএস চালু রয়েছে, এটি তারই একটি।

এই সিএফএসে আসা রোহিঙ্গা ও তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয়দের ৬০ শিশু একসঙ্গেই ছিল। এখানে গান ও খেলাধুলায় মেতে থাকা শিশুদের কোলাহলে পূর্ণ এই সিএফএসে তাদের সঙ্গে এক ঘণ্টারও বেশি সময় কাটান ফেরদৌস।

ফেরদৌস বলেন,“নিঃসঙ্গ রোহিঙ্গা শিশুদের স্থানচ্যুত হওয়ার ভীতিকর অভিজ্ঞতা কাটিয়ে তাদের জীবন এগিয়ে নিতে ইউনিসেফ ও তার সহযোগীরা কীভাবে সহায়তা করছে সেটা দেখতে পাওয়া আমার জন্য এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা।“

শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত মুহূর্ত কাটানোর সময় তিনি তাদের গান গেয়ে শোনান ও তাদের সঙ্গে খেলায় মেতে ওঠেন। তাৎক্ষণিক তিনি তাদের হৃদয় জয় করেন।

শিশুদের প্রতি বন্ধুসুলভ উপদেশ দিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ আতিথেয়তার জন্য পরিচিত। অতিথিদের সঙ্গে আমাদের এমন কোনো আচরণ করা উচিত হবে না, যাতে আতিথেয়তা নিয়ে আমাদের এই ভাবর্মূতি ক্ষুণ্ণ হয়। একই সঙ্গে ভারসাম্য ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করতে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও তাদের শিশুদের এ দেশের আইনের প্রতি অনুগত থাকা উচিত।“

নজিরবিহীন এই মানবিক বিপর্যয়ের সময়ে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে সহায়তায় বলিষ্ঠভাবে এগিয়ে আসার জন্য বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানান ফেরদৌস। তিনি বলেন, “আমরা সবাই মানবতার অংশ। তাই চলুন রোহিঙ্গাদের প্রতি আমারা সবাই মানবিক হই এবং তাদের যথাসাধ্য সহায়তায় এগিয়ে আসি।“

 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: