গল্পসমূহ

রোহিঙ্গা শিশুদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন সাকিব

ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী

ইউনিসেফের শুভেচ্ছা দূত এবং তারকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান রোহিঙ্গা শরণার্থী বিশেষ করে শিশু ও নারীদের মানবিক সংকট থেকে পরিত্রানের জন্য সকলকে এগিয়ে আসার আহবান জানিয়েছেন।

জাতীয় ক্রিকেটের এই তারকা ২৩ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে যাত্রা শুরু করে কক্সবাজার বিমান বন্দরে এসে নামেন। তিনি কক্সবাজার বিমান বন্দর থেকে সরাসরি কুতুপালং অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে পৌছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দুর্দশা এবং ইউনিসেফের কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন ।

ক্যাম্প ঘুরে তিনি বলেন, এই মানব সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারী ও শিশু এবং প্রকৃতপক্ষেই তাদের সাহায্য প্রয়োজন।

ইউনিসেফের শুভেচ্ছাদূত সাকিব আল হাসান ইউনিসেফ পরিচালিত বালুখালী আশ্রয়কেন্দ্রের একটি শিশু-বান্ধব কেন্দ্র পরিদর্শন করছেন।

সকলের কাছে সহযোগিতা কামনা করে সাকিব বলেন, “বাংলাদেশ সরকার, বিদেশী রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ও বেসরকারী সংস্থা এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে রোহিঙ্গাদের সংকট কাটাতে অনেকেই সচেষ্ট হয়েছেন। কিন্তু আরো সহযোগিতার প্রয়োজন। তাই আপনার সহযোগিতার হাত বাড়াতে ইউনিসেফ এর ওয়েবসাইট ভিজিট করুন এবং অনুদান দিন বাটন চাপুন|”

সাকিব আরো বলেন, “এটি মানবতার সংকট এবং মানুষ হিসেবে বিপদাপন্ন মানবতার পাশে আমাদের সকলের দাঁড়ানো উচিত| কেননা তারা অত্যন্ত মানবেতর জীবনযাপন করছেন।”

শিশুদের সাথে সময় কাটান সাকিব

সাকিব ইউনিসেফের সহযোগিতায় এবং কোডেক (ইউনিসেফের সহযোগী সংস্থা) এর ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত শিশু-বান্ধব কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। নতুনভাবে আসা দেড়শত রোহিঙ্গা শিশুর উপস্থিতিতে সেন্টারটি ছিল পরিপূর্ণ ও মুখরিত ।

শিশুদের কেউ কেউ রোহিঙ্গা গান গাইছিল। কেউবা কিছু রঙিন বিল্ডিং ব্লক এবং বিনোদন সামগ্রী নিয়ে খেলছিল। বাকীরা ছবি অঙ্কন ও ও চিত্রাঙ্কনে ব্যস্ত ছিল।

বর্ণনা দিতে গিয়ে কোডেক এর কর্মকর্তারা সাকিবকে জানান,কxভাবে রোহিঙ্গা শিশুদের সমবয়সীদের সাথে মিথস্ক্রিয়া, বিনোদনমূলক কর্মকাণ্ড এবং মানসিক কাউন্সিলিংয়ের মাধ্যমে দেশত্যাগ ও বিচ্ছিন্নতার ক্ষত মোকাবেলা করতে শেখানো হয়।

এসব কার্যক্রম নিবিড়ভাবে প্রত্যক্ষ করে সাকিব বলেন, “নিদারুনভাবেই এসব শিশুর সাহায্যের প্রয়োজন। তারা যে সহযোগিতা পাচ্ছে তা তাদের প্রাথমিক কষ্ট দূর করতে খুব কার্যকর।”

পরে তিনি শিশুদের অঙ্কন বিষয়ে একটি অধিবেশনে অংশ নেন এবং শিশুদের সাথে খেলাচ্ছলে সময় কাটান। রোহিঙ্গা শিশুদের বেশিরভাগই সাকিবকে চেনে না। এমন সময় যখন তিনি একটি সাদা কাগজে ক্রিকেট ব্যাটের ছবি আঁকলেন, সবাই হাত তালি দিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে জানায় যে, তারা এ খেলা জানে ও ভালবাসে।

নতুন করে আনা রোহিঙ্গা শিশুদের বিনোদনমূলক এবং মানসিক সহায়তার জন্য ১০০টির বেশি শিশুবান্ধব সেন্টার এখন কাজ করছে। এসব সেন্টার রোহিঙ্গা শিশুদের মানসিক সহায়তা দিয়ে আসছে। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন শিশুদের ভ্রাম্যমান এসব সেন্টার ও প্রচারের মাধ্যমে সনাক্ত করা হচ্ছে।#

 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: