গল্পসমূহ

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ পানি সরবরাহ

ইফতিখার আহমেদ চৌধুরী

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মাঝে পানির যোগানই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং যখন ত্রাণ বহনকারী লরিগুলোর চেয়ে পানি সরবরাহকারী ট্রাকগুলোর সামনে একই রকম বা কোনো কোনো ক্ষেত্রে অধিক সংখ্যক মানুষ লাইনে দাঁড়ায় তখন নিরাপদ পানি নিয়ে হতাশার বিষয়টি স্পষ্টতই দৃশ্যমান হয়ে ওঠে।

ইউনিসেফের সহায়তায় জনস্বাস্থ্য ও প্রকৌশল বিভাগ (ডিপিএইচই) ট্রাকের মাধ্যমে যে পানি সরবরাহ করছে সেখান থেকে প্রতিদিন দু’বার পানি সংগ্রহ করেন রহিমা খাতুন (৩০)। ৭ সেপ্টেম্বর পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে আসা এই রোহিঙ্গা নারী বলেন, ‘এখান থেকে প্রতিদিন দু’বার করে সংগ্রহ করা দুই কলস পানি আমাদের ১০ সদস্যের পরিবারের প্রয়োজন মেটায়। এই পানি পান করে এখন পর্যন্ত আমরা পানিবাহিত কোনো রোগে আক্রান্ত হইনি। এই পানি না থাকলে আমরা কী করবো সেটা সত্যিই আমি কল্পনাও করতে পারি না।’

‘পান করা, গোসল ও অন্যান্য গৃহস্থালী কাজের জন্য যতোটা সম্ভব পানি সংগ্রহ করার চেষ্টা করি আমরা। নিরাপদ পানি ছাড়া আমরা কীভাবে বেঁচে থাকবো’, জানতে চায় কৌসরি বিবি (১১), যে তার পরিবারকে পানি সংগ্রহে সহায়তা করে।

এমন হতাশা বিবেচনায় নিয়ে পরিচ্ছন্নতার ক্ষেত্রে করণীয় সবকিছু করার চেষ্টা করছে ইউনিসেফ ও তার সহযোগীরা, যার মধ্যে রয়েছে গভীর নলকূপ স্থাপন, ট্রাকে করে পানি সরবরাহ এবং যেসব স্থান দিয়ে ব্যাপকহারে রোহিঙ্গা আসছে সেসব স্থানে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া।

ডিপিএইচই’র সহকারী প্রকৌশলী মো. নাসরুল্লাহ বলেন, ‘ইউনিসেফের সহায়তায় উখিয়া ও টেকনাফে ছয়টি ভ্রাম্যমাণ পানিবাহী ট্রাক ও ১৪টি ভূ-উপরিভাগের পানি পরিশোধনাগারের মাধ্যমে আমরা প্রতিদিন প্রায় ২০০,০০০ মানুষের কাছে ৬০,০০০ লিটারের বেশি পানি সরবরাহ করি।‘ দৈনিক পানি সরবরাহের এই মাত্রা শিগগিরই বাড়িয়ে ১,০০,০০০ লিটারে উন্নীত করা হবে বলেও জানান তিনি।

ডিপিএইচই’র পানি সরবরাহকারী ট্রাকের চালক মোমিন উল্লাহ যোগ করেন, ‘নিরাপদ পানির চাহিদা এতটাই তীব্র যে আমাদের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা সত্ত্বেও গতকাল দুইশ’র বেশি মানুষকে খালি হাতে ফেরাতে হয়েছে।‘

এদিকে, কুতুপালংয়ে নতুন করে আসা বেশিরভাগ লোকজন যেখানে আশ্রয় নিচ্ছে সেই নতুন আশ্রয়কেন্দ্রে ৫০টি গভীর নলকূপ স্থাপনে জনস্বাস্থ্যের জন্য এনজিও ফোরামকে, ২৭টি গভীর ও ৭৫টি অগভীর নলকূপ স্থাপনে ওয়াটারএইড বাংলাদেশকে, ১০টি গভীর ও ১২০টি অগভীর নলকূপ স্থাপনে অক্সফামকে সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ।

এনজিও ফোরামের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুস সালাম বলেন, ‘ইউনিসেফের সহায়তায় আমরা ৪০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য মাটি খনন করছি। পানির স্তর গড়ে মাটির ৭০০-৮০০ ফুট গভীরে। তাই এখানে একটি গভীর নলকূপ স্থাপনে ৬-৭ দিন লেগে যাচ্ছে।‘

বিষয়টি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমরা তিনটি গভীর নলকূপ খনন প্রায় শেষ করেছি। তবে ৫০টি গভীর নলকূপ স্থাপনের পর থেকে আমরা এই নতুন আশ্রয়কেন্দ্রে ২০ হাজারের বেশি মানুষের পানির চাহিদা পূরণে সহায়তা দিতে পারবো।‘ প্রতিদিনই নতুন আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: