গল্পসমূহ

ফেসবুকে আপনার বাচ্চারা কতোটা নিরাপদ?

এস আর করিম

ছোটবেলা থেকেই বাচ্চাদের অজানা লোকজনের ব্যাপারে সতর্ক করা হয়। অপরিচিত মানুষের সাথে কথা বলতে মানা করা হয়। কিন্তু এখন জন্মের পর থেকেই সবাই ফেসবুকে। একটা ক্লিকেই জানা যায় কে কোথায় কিভাবে কি করছে।

তাহলে এখন বাচ্চাদের নিরাপদ রাখবেন কিভাবে?

বিশ্বব্যাপী অনেক অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের বাচ্চারা ফেসবুক ব্যবহার করে। নিজেদের বাচ্চাদের অভিজ্ঞতা থেকেই বিশেষজ্ঞরা অন্যান্য অভিভাবকদের কিছু পরামর্শ দিয়ে থাকে। তার মধ্যে থেকেই আপনার বাচ্চাদেরকে বোঝানোর এবং ওদের সাথে শেয়ার করার জন্য পাঁচটি পরামর্শ দেয়া হলো:

১। একসাথে বসুন

সময় করে আপনার বাচ্চাকে সাথে নিয়ে বসে ওর প্রাইভেসি সেটিংস-এ ঢুকে দেখুন কারা আপনার বাচ্চার ছবি, ব্যাক্তিগত তথ্য, জন্ম তারিখ, ঠিকানা দেখতে পায়। দুইজনে মিলে ঠিক করুন, কোনটা আপনার বাচ্চার জন্য উপযোগী এবং কি করলে আপনিও কিছুটা নিশ্চিন্ত থাকতে পারবেন।

ঘোষণার দরকার নেই

কোথাও যাওয়ার সাথে সাথেই ছবি তুলে বা ‘চেক ইন’ করে সবাইকে জানিয়ে দেবার কোন দরকার নেই। নিরাপত্তার দিক থেকে এটা ভয়ের ব্যাপার!  ভেবে দেখুন, বাইরে ঘুরতে যাওয়ার সময় আপনি কি নিজের বাসার দরজায় লিখবেন যে আপনি দূরে একটা বন্ধুর বিয়েতে যাচ্ছেন? বা পাড়ায় মাইকিং করবেন যে আপনি আগামী চারদিন ঢাকা ছেড়ে সিলেট ঘুরতে যাচ্ছেন? ফেসবুকে দেওয়া তথ্য কে দেখবে তার কোন ঠিক নেই, তাই খেয়াল রাখতে হবে যাতে সম্পূর্ণ অচেনা, অজানা লোকেরা আপনার সন্তানের খবরাখবর না জানতে পারে।

এর মানে কিন্তু এই না যে ফেসবুকে কোন কিছুই শেয়ার করা যাবে না। শেয়ার করুন, ‘চেক ইন’ করুন, কিন্তু তক্ষনি না, কয়েক ঘণ্টা পরে করুন।

আগে পরিচয়, পরে ফেসবুক

এটা খুব সহজ একটা নিয়ম। চেহারায় না চিনলে, ভালোভাবে পরিচিত না হলে ‘ফ্রেন্ড রিকোয়েস্টে’ হ্যা বলবে না। আর এটাও যাচাই করা জরুরী যে প্রোফাইলে ছবিটা যার, আসলে এটা সেই কি না। দরকার হলে মুখোমুখি কথা বলে জেনে নিন। কারণ এভাবে অনেক বাচ্চারাই ‘ক্যাটফিশিং’-এর কবলে পরে।

বন্ধুদের খোঁজ রাখুন

আপনার বাচ্চার ‘ফ্রেন্ড লিস্টে’ কারা আছে? সবাইকে আপনি চিনতে পারবেন?  না চিনলে ওকেই জিজ্ঞেস করুন। আর এই তালিকাটি যতটা সম্ভব ছোট রাখতে বলুন। অন্তত বছরে দুইবার, ওর বন্ধুর তালিকাটি ভালো করে দেখুন এবং কাছের বন্ধুদের সম্পর্কে জানার চেষ্টা করুন। তাদের বাসার ঠিকানা, মোবাইল নম্বর নিয়ে রাখুন। পারলে তাদের বাবা-মায়ের সাথেও পরিচিত হয়ে নিন। এইসব ব্যাপারে আপনার বাচ্চার সাথে খোলাখুলি আলোচনা করাই সবচেয়ে ভালো।

৫। সবার আগে অনুমতি

শুধু ওর নিরাপত্তাই না, অন্যদের কথাও ভাবতে হবে। তাই বাচ্চাদেরকে অনুমতি নেওয়ার গুরুত্বটা বুঝিয়ে দিন। অনুমতি ছাড়া কারো ছবি তোলা বা শেয়ার করা কখনোই ঠিক না। কারন অনলাইনে একবার একটা কিছু পোস্ট করলে, সেটা পুরোপুরি ফিরিয়ে নেওয়ার কোন উপায় নেই।

 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: