গল্পসমূহ

প্রথম ৬ মাসে শিশুর সাথে কি কি করবেন

আমাদের মস্তিষ্কের সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধি হয় গর্ভাবস্থার শেষ ত্রৈমাসিক থেকে দুই বছর বয়স পর্যন্ত। প্রথম ১,০০০ দিনে মস্তিষ্কের নিউরোনগুলি প্রত্যেক সেকেন্ডে ৭০০–১০০০ নতুন সংযোগ সৃষ্টি করে—এই গতিতে জীবনে আর কখনো নিউরোন সংযোগ তৈরী হয় না! এই সময়ে শিশু সঠিকভাবে উদ্দীপিত না হলে ওর বৃদ্ধি গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, চিরকালের জন্য।

সময়ের সাথে সাথে শিশুর করার ও বোঝার ক্ষমতা বাড়তে থাকে, তাই চলুন জেনে নেই প্রথম ৬ মাসে ওর সাথে কি কি করলে ওর সঠিক বিকাশ হবে।

শিশুর ছয় ইন্দ্রিয় উদ্দীপিত করুন

দেখার, শুনার, অনুভব করার, নড়াচড়া করার এবং আপনাকে স্পর্শ করার উপায় দিন আপনার সন্তানকে। এতে ও শান্তি ও স্বস্তি বোধ করবে এবং একটু একটু করে আপনার সাথে ওর বিশ্বাস স্থাপন হবে।

সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো আপনার শিশুর থেকে সাড়া পাওয়া। হাসি শেখার একটি চিহ্ন তাই বেশি করে আপনার শিশুর দিকে হাসবেন। আস্তে আস্তে দেখবেন আপনার শিশুও আপনার সাথে হাসছে।

এরপর, শিশুর সামনে ধীরে ধীরে রঙিন জিনিস, যেমন ঝুনঝুনি বা প্লাস্টিকের মগ, নড়া-চড়া করুন। খেলনার শব্দ ও রং দ্বারা ও উদ্দীপিত হবে। যখন খেলনার উপর ওর চোখ পরে, সেটা সরিয়ে ফেলুন—উপর-নিচ, এদিক-ওদিক সরাতে থাকুন। ও যেন চোখ দিয়ে সেটা অনুসরণ করতে পারে তা নিশ্চিত করুন।

একটু একটু করে দেখবেন আপনার শিশু খেলনার দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে। এটাও মনে রেখেন যে ও মুখে খেলনা দিয়ে কোন জিনিসটি উষ্ণ, শীতল, নরম বা শক্ত সেটা শিখে। তাই যা দিয়েই খেলেন ওর সাথে, সেটা পরিষ্কার, বিষমুক্ত এবং যথেষ্ট বড় হতে হবে যাতে গলায় আটকে না যায়।

শিশুর সাথে কথা বলুন

আপনার সন্তানের সাথে কথা বলুন এবং ওর শব্দ বা অঙ্গভঙ্গি নকল করুন। এভাবে ওর সাথে একটা “কথোপকথন” শুরু হবে। দেখবেন ও আপনার মুখের দিকে মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে থাকবে এবং ফের আপনাকে অনুসরণ করতে চেষ্টা করবে।

দৈনিদিন জিনিসের ছবি কেটে কেটে ওকে দেখান। বিভিন্ন রং, দৃশ্য ও চেহারার ছবি সংগ্রহ করুন যাতে ওগুলি সম্পর্কে ওকে বলতে পারেন। অবশ্যই খেয়াল রাখুন আপনার শিশু কি আপনার কথা শুনছে এবং নিচের মতন অংশগ্রহণ করছে। গল্প শুনতে শুনতে ওর মুখের ভঙ্গি পাল্টাবে।

শিশুর সাথে খেলা করুন

আপনার শিশু ছোট বলে যে সে খেলতে পারে না তা কিন্তু একদমই নয়। ওকে পিটার উপর শোয়ায় দিন। তারপর ওর কাছে বসে, ধীরে ধীরে আপনার আঙ্গুল ওর সামনে নাড়াচাড়া করুন। তারপর হুট করে তবে মৃদুভাবে ওকে শুড়শুড়ি দিন এবং মজা করে কথা বলুন, যেমন: “এইযে! ধরে ফেললাম তোমাকে!”

কিছুক্ষন পরপর খেলাটি বদলে দিন, যেমন কতক্ষন পর শুড়শুড়ি দিন বা কত দ্রুত আপনার হাতের আঙ্গুল ওর সামনে নিয়ে আসেন। আপনার শিশু মজা পাচ্ছে বুঝবেন ওর হাসি বা কলকল করা শুনে।

 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: