সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

হাম আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন আসা রোহিঙ্গাদের মাঝে টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করেছে বাংলাদেশ

কক্সবাজার, বাংলাদেশ, ১০ নভেম্বর ২০১৭ বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে আসা রোহিঙ্গা এবং তাদের আশ্রয় প্রদানকারী কমিউনিটিগুলোতে হাম আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি; সরকার ও জাতিসংঘ সহযোগীদের কক্সবাজারে মিয়ানমার সীমান্তবর্তী জনবহুল ক্যাম্প ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে টিকাদান কর্মসূচি শুরুর বিষয়ে উদ্যোগী করেছে।

আগে টিকা দেওয়া হোক বা না হোক, কক্সবাজারে আসা নতুন রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও তাদের আশ্রয় প্রদানকারী কমিউনিটিগুলোর ছয় থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ৩ লাখ ৬০ হাজার জনকে স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ভ্রাম্যমাণ টিকাদানকারী দল ও সীমান্তে বাংলাদেশের প্রবেশপথগুলোতে হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া হবে।

শিশুদের ঘাতক হিসেবে পরিচিত হাম; বিশেষ করে টিকা দেওয়া হয়নি এবং অপুষ্টিতে ভুগছে এমন শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। গত আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশে এসে বর্তমানে কক্সবাজার জেলায় আবদ্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাসকারী ৬ লাখ ১১ হাজারের বেশি মানুষের জন্য এই হাম এখন বড় স্বাস্থ্য ঝুঁকি।

৪ নভেম্বর পর্যন্ত কক্সবাজারে ক্যাম্প, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও স্থানীয় কমিউনিটিতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে অবস্থানরত জনগোষ্ঠীর মাঝে হামে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যু এবং আরও ৪১২ জনের অসুস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে উখিয়া উপজেলায় ৩৫২ জন ও টেকনাফ উপজেলায় ৪৬ জন এবং জেলা হাসপাতালে আরও ১১ জনের আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এই আক্রান্তদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৯৮ জনই নতুন করে আসা। এছাড়া স্থানীয় কমিউনিটিতে আক্রান্ত হয়েছে ১৪ জন। আক্রান্তদের ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদার বলেন, “ক্যাম্প ও অন্য স্থানগুলোতে জনাকীর্ণ পরিস্থিতি, অপুষ্টি এবং পানি ও স্যানিটেশনের তীব্র সংকটের কারণে হাম ও অন্য সংক্রামক রোগব্যাধির বিস্তারে বিশেষ করে শিশুরাই বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। যত বেশি সম্ভব শিশুর জীবন বাঁচানোর স্বার্থে এসব রোগের আরও বিস্তৃতি ঠেকাতে অবিলম্বে সমন্বিত প্রচেষ্টা শুরু করা অপরিহার্য।”

এ ধরনের স্বাস্থ্যজনিত জরুরি পরিস্থিতিতে হাম প্রাদুর্ভাবের উচ্চ ঝুঁকি থাকায় মিয়ানমার থেকে নতুন করে রোহিঙ্গারা আসতে শুরু করার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও অন্য স্থানীয় সহযোগীদের সহায়তায় দ্রুততার সঙ্গে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় (এমওএইচএফডব্লিউ)। এর আওতায় ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ১ লাখ ৩৬ হাজার শিশুকে হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়া হয়। এছাড়াও পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত ৭২ হাজার শিশুকে দুই ডোজ করে পোলিও টিকা (বিওপিভি) খাওয়ানোর পাশাপাশি হামজনিত জটিলতা প্রতিরোধে এক ডোজ করে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হয়। হাম ও রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি শুরুর পর নতুন করে আসাদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ক্যাম্প ও অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর অভ্যন্তরে তাদের বিচরণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সব শিশুর কাছে সেবা পৌঁছানো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ড. এন পরানিথরন বলেন, “টিকাদান কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ৪৩টি স্থায়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ৫৬টি ভ্রাম্যমাণ টিকাদানকারী দল এবং সীমান্তের মূল প্রবেশপথগুলোতে পৃথক টিকাদানকারী দলগুলো ছয় মাস থেকে ১৫ বছর বয়সীদের হাম ও রুবেলার টিকা দেওয়ার পাশাপাশি পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুদের পোলিও টিকা খাওয়াবে। পাশাপাশি তারা গর্ভবতীদের ধনুষ্টংকারের টিকা (টিটি) দেবে।  সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে হাম থেকে সুরক্ষিত রাখা এবং এ রোগের বিস্তার ঠেকানোই এ প্রচেষ্টার লক্ষ্য।”

সরকার ও সহযোগীদের মধ্য থেকে ৭০ জনেরও বেশি টিকাদানকারীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। তারা আগামীকাল থেকে নির্দিষ্ট স্থানে এবং ভ্রাম্যমাণ টিমের মাধ্যমে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচি শুরু করবে; যদিও টেকনাফের সাবরাং সীমান্তে বাংলাদেশের প্রবেশপথে ১ নভেম্বর থেকেই টিকাদান কর্মসূচি চলছে।

নির্দিষ্ট স্থানে এবং ভ্রাম্যমাণ টিমের সদস্যরা দুই বছরের কমবয়সী শিশুদের; বাংলাদেশে পাওয়া যায় ইপিআই কর্মসূচির আওতাভুক্ত এ ধরনের টিকাগুলোও দেবে, যেমন বিসিজি, পাঁচ ডোজের টিকা (পেন্টাভ্যালেন্ট ভ্যাক্সিন), মুখে খাওয়ানোর পোলিও টিকা, নিউমোনিয়ার টিকা (নিউমোকোক্যাল ভ্যাক্সিন) এবং হাম ও রুবেলার দুই ডোজ টিকা।

বাড়তি পদক্ষেপ হিসেবে চিকিৎসা উপকরণ বিতরণ জোরদার করা হয়েছে; যার আওতায় হাম আক্রান্তদের মাঝে ভিটামিন ‘এ’ সম্পূরক, নিউমোনিয়ার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক এবং হামজনিত ডায়রিয়ার জন্য ওরাল রিহাইড্রেশন সল্ট (ওআরএস) বিতরণ করা হচ্ছে। শরণার্থী জনগোষ্ঠীর পরিচ্ছ্ন্নতা সম্পর্কিত অবস্থার উন্নয়নে ৩ দশমিক ২ মিলিয়ন পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও সর্বমোট ১৮ হাজার ৪১৮টি পরিচ্ছন্নতা সম্পর্কিত উপকরণ (হাইজিন কিট) বিতরণ করা হয়েছে, যাতে ৯২ হাজার ৯০ জন উপকৃত হয়েছেন।

চলমান উদ্যোগটি এ বছরের ২৫ আগস্ট হতে মিয়ানমার থেকে কক্সবাজারে নতুন করে আসা এবং তাদের আশ্রয় প্রদানকারী স্থানীয় কমিউনিটিগুলোর জন্য পরিচালিত আরেকটি ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি। সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পরিচালিত হাম ও রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ১ লাখ ৩৬ হাজার মানুষকে টিকা দেওয়ার পর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও সহযোগীরা ঝুঁকির মুখে থাকা এই জনগোষ্ঠীকে দুই ধাপে কলেরার টিকা খাওয়ায়। গত ১০ অক্টোবর শুরু হওয়া প্রথম ধাপে নতুন করে আসা এবং তাদের আশ্রয় প্রদানকারী স্থানীয় কমিউনিটির এক বছর বা তার বেশি বয়সী ৭০০,০০০ মানুষকে কলেরার টিকা খাওয়ানো হয়, যেখানে দ্বিতীয় ধাপে ৪ থেকে ৯ নভেম্বর এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী ১৯৯,৪৭২ শিশুকে অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য বাড়তি এক ডোজ করে ওসিভি এবং ৫ বছরের কম বয়সী ২৩৬,৬৯৬ শিশুকে দুই ডোজের পোলিও টিকা (বিওপিভি) খাওয়ানো হয়।

###

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

  • জন-জ্যাক সাইমন, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, jsimon@unicef.org, +৮৮০ ০১৭১৩০৪৩৪৭৮
  • এএম শাকিল ফয়জুল্লাহ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, asfaizullah@unicef.org +৮৮০ ১৭১৩ ০৪৯৯০০
  • ফারিয়া সেলিম, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, fselim@unicef.org +৮৮০ ১৮১৭ ৫৮৬ ০৯৬
  • মাইকেল ভুরেন্স ভ্যান এস, ডব্লিউএইচও, বাংলাদেশের কক্সবাজারে, vurensm@who.int +৮৮০ ১৭৩০ ০৩২ ৩২৯
  • শামিলা শর্মা, ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক কার্যালয়, sharmasha@who.int +৯১ ৯৮১৮২৮৭২৫৬
 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: