সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

সহজ কার্যকর উপায়ে নবজাতকদের রক্ষা করা

ঢাকা, ১২ নভেম্বর ২০১৭: নবজাতকের অপরিহার্য যত্ন ও বাংলাদেশে এ সম্পর্কিত যেসব সেবা পাওয়া যায় সে বিষয়ে মানুষের জ্ঞান, আচরণ ও অভ্যাসগুলো উন্নত করতে ইউনিসেফ এবং কানাডা সরকারের সহায়তায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় আজ ‘নবজাতকের স্বাস্থ্য বিষয়ক জাতীয় প্রচারাভিযান’ শুরু করেছে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব জাহিদ মালেক এমপি; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব ফয়েজ আহমেদ; স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক প্রফেসর ডা. আবুল কালাম আজাদ; উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতিনিধি, পেশাজীবী, স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও গণমাধ্যম কর্মী ।

পাঁচ বছরের কমবয়সীদের মৃত্যুহার কমানোর বিষয়ে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশে নবজাতকের মৃত্যুহার কমানো একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুর মৃত্যুহারে নবজাতকের সংখ্যা বেড়েছে, যা এখন ৫৯ শতাংশ।

প্রতিবছর বাংলাদেশে ৬২,০০০ নবজাতকের মৃত্যু হয়, অর্থাৎ প্রতি ঘণ্টায় মারা যায় ৭ নবজাতক, যার বেশির ভাগই মারা যায় প্রতিরোধ ও নিরাময়যোগ্য অসুস্থতায়। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি ১,০০০ নবজাতকের মধ্যে মৃত্যুর হার ১২ নিচে নামিয়ে আনার যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশের সামনে রয়েছে তা অর্জনে প্রচেষ্টা আরও জোরদার করতে হবে।

উল্লেখ্য, নবজাতক মৃত্যুর ৮০ শতাংশেরও বেশি ঘটে তাদের জন্মের সাতদিনের মধ্যে এবং তাদের ৫০ শতাংশেরই মৃত্যু হয় জন্মের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে। এদের বেশির ভাগেরই জন্ম হয় বাড়িতে দক্ষ কোনো ধাত্রীর অনুপস্থিতিতে। এছাড়া নবজাতক মৃত্যুর প্রধান কারণগুলো ১২ বছর ধরে একই রকম রয়ে গেছে।

ইউনিসেফ প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদার অনুষ্ঠানে বলেন,”বাংলাদেশে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধিতে সরকারের প্রচেষ্টায় গর্বিত অংশীদার ইউনিসেফ। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথে এগিয়ে যেতে মা ও নবজাতকের রোগবালাই এবং মৃত্যুহার কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের প্রচেষ্টায় সহায়তা দিতে ইউনিসেফের অঙ্গীকার আমি পুনর্ব্যক্ত করছি।”

মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য সেবার মান এগিয়ে নিতে অনেকগুলো উদ্যোগের মধ্যে ‘ন্যাশনাল নিউবর্ন হেলথ্‌ প্রোগ্রাম’ (এনএসএইচপি) স্বাস্থ্য খাতের নতুন প্রকল্পের (২০১৭-২০২২) চলমান পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা বাংলাদেশ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

ইউনিসেফের সহায়তায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় নবজাতকের পরিচর্যায় পিছিয়ে থাকা বাংলাদেশের ২৫টি জেলায় সবচেয়ে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে বাসাবাড়ি ও কমিউনিটিভিত্তিক নবজাতকের যত্নের ধরন ও প্রচলিত অভ্যাসগুলো উন্নত করতে কাজ করছে। ৩২টি হাসপাতালে অসুস্থ নবজাতকদের জন্য ‘স্পেশাল কেয়ার নিউবর্ন ইউনিট (এসিএএনইউ) এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘নিউবর্ন স্ট্যাবিলাইজিং ইউনিট’ চালুসহ বিভিন্ন সুবিধা উন্নত করার পদক্ষেপ এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য।

অনুষ্ঠানে মাতৃ, নবজাতক ও শিশু স্বাস্থ্য সেবাসমূহ আরও জোরদার করতে আলোচকরা এসব সেবার বিষয়ে কমিউনিটিকে সংবেদনশীল করা এবং সহজ কার্যকর উপায়ে নবজাতকদের রক্ষা করার মূল বার্তা ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ###

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

ফারিয়া সেলিম, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, টেলি: (+৮৮) ০১৮১৭৫৮৬০৯৬, fselim@unicef.org
এএম শাকিল ফয়জুল্লাহ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, টেলি: (+৮৮) ০১৭১৩০৪৯৯০০, asfaizullah@unicef.org

ইউনিসেফ সম্পর্কিত

ইউনিসেফের প্রতিটি কাজের উদ্দেশ্য শিশুদের অধিকার প্রচার ও প্রত্যেক শিশুর কল্যাণ নিশ্চিত করা। অংশীদারদের সঙ্গে মিলে বিশ্বের ১৯০টি দেশ ও অঞ্চলে আমরা আমাদের এই অঙ্গীকার বাস্তবে রূপদানে কাজ করি, যার মূল লক্ষ্য সর্বত্র সব শিশুর মঙ্গল নিশ্চিত করতে সবচেয়ে অরক্ষিত ও অবহেলিত শিশুদের কাছে পৌঁছা।

ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরো তথ্যের জন্য ভিজিট করুন:  www.unicef.org.bd.

শিশুদের বিষয়ে প্রাপ্য সর্বশেষ তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: data.unicef.org.

ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন TwitterFacebook

 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: