সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

শিশু অধিকার সমুন্নত রাখার জন্য গণমাধ্যম কর্মীদের ইউনিসেফের স্বীকৃতি

ঢাকা, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৭: ‘মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০১৭’ চলাকালে বিভিন্ন ধারার মিডিয়ায় শিশুদের অধিকার সমুন্নত রাখার  ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানের জন্য ৪৯ জন গণমাধ্যম কর্মীকে আজ সম্মানীত করেছে ইউনিসেফ।

প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক উভয় ক্ষেত্রে সৃজনশীল মাধ্যম ও সাংবাদিকতায় শ্রেষ্ঠত্ব উদযাপনে ২০০৫ সাল থেকে চালু হওয়া মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড ২০১৭ সালে ১৩তম বর্ষে পদার্পণ করেছে।

বর্ণিল ও আনন্দঘন এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই অনুষ্ঠান শিশুদের কণ্ঠস্বরকে সবার সামনে তুলে ধরে এবং গণমাধ্যম যে প্রতিনিয়ত শিশুদের জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসার ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে তা উদযাপন করে। দেশের সকল প্রান্ত থেকে গণমাধ্যম কর্মীরা শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা, শিশু পাচার, শিশুদের জন্য পুষ্টি, শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা এবং সমাজে শিশুদের প্রভাবিত করে এমন আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তাদের কাজ জমা দিয়েছিলেন।

বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার সর্বত্র শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝে সমান জনপ্রিয় অ্যানিমেশন চরিত্র মীনার নামে এই পুরস্কারের নামকরণ করা হয়েছে। মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডের ১৩তম বার্ষিকীকে স্মরণীয় করে রাখতে অনলাইন/প্রিন্ট মিডিয়া, রেডিও ও ভিজ্যুয়াল (প্রতিবেদন/ভিডিওগ্রাফিসহ সৃজনশীল কনটেন্ট) এবং সচিত্র সংবাদ বা নিউজ ফটোগ্রাফি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার প্রদান করা হয়।

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, এমপি এবং ইউনিসেফ বাংলাদেশের পক্ষে এডুয়ার্ড বেগবেদার বিজয়ীদের হাতে ক্রেস্ট, পুরস্কারের অর্থ ও সনদ তুলে দেন। ইউনিসেফ বাংলাদেশের শুভেচ্ছাদূত অভিনেত্রী আরিফা জামান মৌসুমি ও জাদুকর জুয়েল আইচ ও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে এডুয়ার্ড বেগবেদার বলেন, “প্রতিবছর মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়; কিন্তু প্রতিবারই গণমাধ্যম কর্মীদের বহুমুখী কাজ ও মিডিয়ার মাধ্যমে শিশুদের বিষয়গুলোকে সামনে এগিয়ে নেওয়ায় উদ্দীপনা এ আয়জনে নতুন মাত্রা যোগ করে। এই প্রচেষ্টার জন্য আমি তাদের অভিনন্দন জানানোর পাশাপাশি শিশুবিয়ে বন্ধ করা, বাস্তুচ্যুত শিশুদের অধিকার নিশ্চিত করা এবং আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের উপর কাজ করার জন্য তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি। কেননা গণমাধ্যমের এসব বিষয়ে একটি বড় ভূমিকা পালন করতে পারে”।

বিগত বছরগুলোর মতোই ১৩তম মীনা মিডিয়া অ্যাওয়ার্ডেও অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে, যেখানে ৭০০-এরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। প্রতিযোগিতামূলক প্রক্রিয়ায় একটি বিচারক প্যানেলের মাধ্যমে প্রিন্ট, অনলাইন ও সম্প্রচার মাধ্যম থেকে পুরস্কারের জন্য মনোনীতদের নির্বাচন করা হয়। মূলতঃ ‘সৃজনশীল’ এবং ‘সাংবাদিকতা’ এই দুই ক্যাটাগরিতে নির্দিষ্ট বয়সসীমার প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করা হয়।

প্রত্যেক ক্যাটাগরি ও বয়স-শ্রেণিতে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার বিজয়ীকে নগদ অর্থ পুরস্কার দেওয়া হয়।

সৃজনশীল লেখক, অভিজ্ঞ পেশাদার গণমাধ্যম কর্মী ও শিক্ষাবিদদের সমন্বয়ে গঠিত এগারো সদস্যের বিচারকের বিশেষজ্ঞ প্যানেলের মাধ্যমে প্রতিটি আবেদন মূল্যায়ন করা হয়। এই প্রক্রিয়ায় প্রত্যেক প্রতিযোগীর নাম নির্দিষ্ট একটি কোড নম্বর দিয়ে বদলে ফেলা হয়, যাতে বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো পক্ষপাতিত্ব না হয়। বিচারক প্যানেলে ছিলেন সেলিনা হোসেন, শাহনূর ওয়াহিদ, রোবায়েত ফেরদৌস, ফাহমিদুল হক, জাকির হোসেন রাজু, কাদির কল্লোল, রতন পাল, মিথিলা ফারজানা, রফিকুর রহমান, জান্নাতুল মাওয়া ও আবু নাসের সিদ্দিক।

এই অনুষ্ঠানে উৎসবের আমেজ ও বর্ণিলতা যোগ করতে ইউনিসেফ কর্মকর্তার পাশাপাশি একটি মেয়ে অনুষ্ঠান সহ-উপস্থাপনা করে। পাশাপাশি ঢাকায় স্থানীয় ড্রপ-ইন-সেন্টারে বসবাসরত এবং সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক অবস্থান থেকে আসা শিশু এবং শিশুদের থিয়েটার গ্রুপ একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান মঞ্চস্থ করে।

###

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

ইফতিখার আহমেদ চৌধুরীইউনিসেফ বাংলাদেশ, টেলিফোন: (+৮৮) ০১৭১১৫৯৫০৪৫, iachowdhury@unicef.org

এ এম শাকিল ফয়জুল্লাহ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, টেলিফোন: (+৮৮) ০১৭১৩০৪৯৯০০, asfaizullah@unicef.org

ইউনিসেফ সম্পর্কিত

ইউনিসেফের প্রতিটি কাজের উদ্দেশ্য শিশুদের অধিকার প্রচার ও প্রত্যেক শিশুর কল্যাণ নিশ্চিত করা। আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে মিলে বিশ্বের ১৯০টি দেশ ও অঞ্চলে আমরা আমাদের এই অঙ্গীকার বাস্তবে রূপদানে কাজ করি, যার মূল লক্ষ্য সর্বত্র সব শিশুর মঙ্গল নিশ্চিত করতে সবচেয়ে অরক্ষিত ও অবহেলিত শিশুদের কাছে পৌঁছানো।

ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরো তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd.

শিশুদের বিষয়ে প্রাপ্য সর্বশেষ তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: data.unicef.org

 

 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: