সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

প্রত্যাবাসনের আগে প্রয়োজন রোহিঙ্গা শিশুদের নিরাপত্তা: ইউনিসেফ

কক্সবাজার, বাংলাদেশ, ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ – ইউনিসেফের উপ নির্বাহী পরিচালক জাস্টিন ফোরসাইথ বলেছেন, রোহিঙ্গা শিশুদের বাংলাদেশ থেকে ফেরত পাঠানোর আগে মিয়ানমারে তাদের নিরাপত্তা ও  মানবিক সহায়তা প্রাপ্তির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের কুতুপালং শরণার্থী শিবির থেকে ফোরসাইথ বলেন, ‘শরণার্থীদের প্রায় ৫৮ শতাংশই শিশু, সহিংসতার অভিজ্ঞতায় যাদের অনেকে এখনও আতঙ্কিত। পরিবারগুলোকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে তাদের অধিকার ও প্রয়োজনগুলোকে কেন্দ্র করে একটি সমঝোতায় পৌছানো অত্যন্ত প্রয়োজন।  শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়া অবশ্যই স্বেচ্ছাকৃত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ হতে হবে।’

গত বছরের আগস্টের শেষ দিকে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ার পর সেখান থেকে সীমান্ত পেরিয়ে পালিয়ে আসা ৬৮৮,০০০ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অনেকেই আশ্রয় পেয়েছে বিশাল এই কুতুপালং ক্যাম্পে। এই শরণার্থীদের অর্ধেকের বেশিই শিশু।

‘গত কয়েকদিনেও সীমান্তের ওপারের গ্রামগুলোতে অগ্নিসংযোগ ও গোলাগুলির খবর শুনেছি আমরা। মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি শিশুর নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাদের প্রত্যাবাসন সংক্রান্ত আলোচনা অপর্যাপ্তই থাকবে,’ যোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘এই অসহায় মানুষগুলোকে সাহায্য করতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ যা কিছু করেছে তার জন্য তারা অনেক প্রশংসার দাবিদার। তাদের নেতৃত্বে অনেক কঠিন পরিস্থিতি সত্ত্বেও এই মানব বিপর্যয়ের সবচেয়ে খারাপ পরিণতি এড়ানো গেছে।’

সামনের বর্যান মৌসুম শরণার্থীদের জন্য বিভিন্ন বিপর্যয় বয়ে আনতে পারে বলে আশঙ্কা করেন ফোরসাইথ।

‘ক্যাম্পের পরিস্থিতি এখানে নিঃসন্দেহে বেশ কঠিন- জনাকীর্ণ অবস্থায় পরিষ্কার পানি, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার অভাব- সবকিছুই শিশুদের জন্য একেকটি ঝুঁকি বহন করে’- বলেন তিনি।

শরণার্থী জনগোষ্ঠী ও নিকটবর্তী আশ্রয়দাতা কমিউনিটিগুলোকে সেবা ও সহায়তা প্রদানে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি কর্মরত বেশকিছু আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থার একটি ইউনিসেফ। অংশীদারদের সঙ্গে মিলে ইউনিসেফ কয়েকশ’ পানিবাহী কূপ খনন, প্রায় ১৬ হাজার টয়লেট স্থাপন, প্রায় ১০ লাখ শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক মানুষকে কলেরার টিকাদানে সহায়তা, অপুষ্টির জন্য ৩ লাখ ৩৫ হাজার শিশুকে পরীক্ষা এবং প্রায় ৮০ হাজার শিশুর জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করেছে।

এসব সত্ত্বেও জনাকীর্ণ ক্যাম্পগুলোতে পানিবাহিত ও অন্যান্য রোগব্যাধিগুলো প্রতিনিয়িত একটি হুমকি এবং প্রত্যেক বাসিন্দার কাছে মৌলিক সুবিধাসমূহ পৌঁছানো নিশ্চিত করতে এসব অতিসত্ত্বর দূর করা প্রয়োজন। বর্তমানে প্রায় ১০০ জন মানুষকে একটি ল্যাট্রিন ব্যবহার করতে হয় এবং পানির সরবরাহে প্রায়ই ঘাটতি দেখা দেয়।

ঝুঁকির মুখে থাকা শিশুদের পাচারকারী এবং অন্যান্য বিপদ থেকে রক্ষায় এবং যে অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে তাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত হতে হয়েছে সেই ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কারণে এখনও যারা আতঙ্কিত তাদের মানসিক সেবা প্রদানে আরোও অনেক কিছু করা উচিত।

শিশুদের জন্য শিক্ষা ও বিনোদনের স্থানগুলো দ্রুতই সম্প্রসারণ করা হয়েছে, তবে এখনও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বর্তমানে প্রায় ২ লাখ ২০ হাজার শিশু যেকোনো ধরনের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত।

জাস্টিন ফোরসাইথ বলেন, ‘এসব ছেলেমেয়েরা যতো দীর্ঘ সময় শেখার সুযোগ ছাড়া থাকবে, তাদের নিজেদের এবং পরিবারের জন্য ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সুযোগ হাতছাড়া করার ঝুঁকি ততোই বাড়বে।’

#####

ইউনিসেফ সম্পর্কিত

বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। প্রত্যেকের জন্য আরও ভালো একটি বিশ্ব বিনির্মাণে আমরা ১৯০টি দেশ ও অঞ্চলজুড়ে সর্বত্র সব শিশুর জন্য কাজ করি। ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কার্যক্রম সম্পর্কে আরো তথ্যের জন্য ভিজিট করুন www.unicef.org.

ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter ও Facebook-এ

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

  • জন-জ্যাকস সাইমন, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, jsimon@unicef.org+880 01713043478
  • বেঞ্জামিন স্টেইনলেচনার, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, bsteinlechner@unicef.org, +88 01701208979
  • ক্রিস্টোফার টাইডে, ইউনিসেফ নিউইয়র্ক, ctidey@unicef.org, +1 9173403017
 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: