সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য নতুন উন্নয়ন সম্ভাবনা উন্মোচিত

পার্বত্য চট্টগ্রামে ৪০০০তম পাড়া কেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষের জন্য নতুন উন্নয়ন সম্ভাবনা উন্মোচিত

ঢাকা, ২১ জানুয়ারি ২০১৮: পার্বত্য চট্টগ্রামে (সিএইচটি) বসবাসকারী মানুষের জন্য মৌলিক সামাজিক সেবা প্রাপ্তির সুযোগ সম্প্রসারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ আনুষ্ঠানিকভাবে ৪০০০তম পাড়া কেন্দ্র উদ্বোধন করায় সংঘাত-পরবর্তী এই এলাকার মানুষের জন্য উন্নয়ন সম্ভাবনার একটি নতুন দ্বার উন্মুক্ত হয়েছে।

ঢাকায় যৌথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়,  পার্বত্য চট্টগ্রাম  উন্নয়ন বোর্ড ও ইউনিসেফ আয়োজিত এক অনুষ্ঠান থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলার মিতিনগাছড়ি এলাকায় ৪০০০তম পাড়া কেন্দ্রটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. গওহর রিজভী ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি র. আ. ম. ওবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এমপিও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈ সিং এমপি।

পার্বত্য চট্টগ্রামের জন্য সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের (আইসিডিপি) আওতায় ইউনিসেফ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড যৌথভাবে পাড়া কেন্দ্র নেটওয়ার্ক প্রতিষ্ঠা ও বাস্তবায়ন করছে,যা বর্তমানে তিন পাহাড়ি জেলা রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মানুষের মৌলিক সামাজিক সেবা প্রাপ্তির মূল কেন্দ্র হিসেবে কাজ করছে।

৪০০০তম পাড়া কেন্দ্র চালুর এই মাইলফলকের মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে বসবাস করা ১৬ লাখ মানুষ ও ১১টি বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মৌলিক সামাজিক সেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ সহায়ক হবে এবং এটি এখানকার সুবিধাবঞ্চিত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নেও ভূমিকা রাখবে।

ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদার বলেন, “৪০০০ পাড়া কেন্দ্রের বিস্তৃত প্রাতিষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক এখন প্রতিষ্ঠিত ও কার্যকর; যা পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য সত্যিই একটি স্মরণীয় মুহূর্ত। উন্নয়নের প্রধান প্রধান প্রায় সব সূচকেই পিছিয়ে থাকা এই অঞ্চলের জন্য সরকারের সর্বোচ্চ প্রতিশ্রুতির একটি সুস্পষ্ট নিদর্শন আজকের এই অনুষ্ঠান।”

১৯৯৭ সালে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের দীর্ঘ ২৫ বছরের অস্থিরতা নিরসনে এবং সেখানে টেকসই উন্নয়নের পথ তৈরি করতে প্রধানমন্ত্রী ও তার সরকারের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি এই অঞ্চলে ইউনিসেফের সহায়তা অব্যাহত রাখার আশ্বাস পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পুষ্টি, সুরক্ষা, পানি ও স্যানিটেশনের মতো ন্যায়সঙ্গত সামাজিক সেবাসমূহ নিশ্চিত করতে এখনও অনেক কাজ বাকি, বিশেষ করে, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায়। তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাড়া কেন্দ্রগুলো ইসিডি কেন্দ্রের সর্বোত্তম উদাহরণ এবং শৈশবকালীন প্রারম্ভিক উন্নয়নের গুরুত্ব বিবেচনায় পাড়া কেন্দ্রগুলোকে বিশেষায়িত ইসিডি কেন্দ্রে রূপান্তর করা যেতে পারে এবং বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ওয়ান স্টপ মৌলিক সামাজিক সেবা প্রদানে “পাড়া কেন্দ্র পদ্ধতি” এর মডেল অনুসরণ করা যেতে পারে।

স্বতন্ত্র জনসংখ্যাতাত্ত্বিক, ভূমি, সামাজিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের সম্প্রদায়গুলো বহুবিধ বঞ্চনার সম্মুখীন হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামাজিক উন্নয়নে বাংলাদেশে ধারাবাহিক অগ্রগতি অর্জন করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলায় এই অর্জনের সমান প্রতিফলন নেই এবং বাংলাদেশে জাতিসংঘের উন্নয়ন সহায়তা কাঠামোর জন্য এই জেলাগুলো পিছিয়ে পড়া জেলা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

উন্নয়নের মূলধারায় পার্বত্য চট্টগ্রামের অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে প্রচারণা চালাতে ইউনিসেফ ও বাংলাদেশ সরকার যৌথভাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি জীবনচক্র পদ্ধতি ব্যবহার করার মাধ্যমে পাড়া/ গ্রাম কেন্দ্র পদ্ধতি প্রণয়ন করে। এর উদ্দেশ্য ছিল পাড়া কর্মীদের বিস্তৃত নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সমন্বিত মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা, পুষ্টি, শিক্ষা, ওয়াশ ও শিশু সুরক্ষা নিশ্চিত করার মধ্য দিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামে প্রান্তিক সম্প্রদায়গুলোর জন্য মৌলিক সামাজিক সেবাগুলো প্রাপ্তি ও ব্যবহারের সুযোগ বাড়ানো।

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

ইফতিখার আহমেদ চৌধুরীইউনিসেফ বাংলাদেশ, টেলিফোন: (+৮৮) ০১৭১১৫৯৫০৪৫, iachowdhury@unicef.org

এ এম শাকিল ফয়জুল্লাহ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, টেলিফোন: (+৮৮) ০১৭১৩০৪৯৯০০, asfaizullah@unicef.org

 

ইউনিসেফ সম্পর্কিত

ইউনিসেফের প্রতিটি কাজের উদ্দেশ্য শিশুদের অধিকার প্রচার ও প্রত্যেক শিশুর কল্যাণ নিশ্চিত করা। আমাদের অংশীদারদের সঙ্গে মিলে বিশ্বের ১৯০টি দেশ ও অঞ্চলে আমরা আমাদের এই অঙ্গীকার বাস্তবে রূপদানে কাজ করি, যার মূল লক্ষ্য সর্বত্র সব শিশুর মঙ্গল নিশ্চিত করতে সবচেয়ে অরক্ষিত ও অবহেলিত শিশুদের কাছে পৌঁছানো।

ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আরো তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: www.unicef.org.bd.

 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: