সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কক্সবাজারে প্রায় পাঁচ লাখ শিশুকে ডিপথেরিয়ার টিকা দেওয়া হচ্ছে

কক্সবাজার, বাংলাদেশ, ১৪ জানুয়ারি ২০১৮ – ডিপথেরিয়ার চলমান বিস্তার দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবেলায় রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প, অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ৪ লাখ ৭৫ হাজারেরও বেশি শিশুকে টিকা দিতে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও স্বাস্থ্যখাতের অংশীদাররা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে।

বাংলাদেশে ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধি ড. বারদান জং রানা বলেন, “ডিপথেরিয়ার আরও বিস্তৃতি ঠেকাতে সব ধরনের প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকাগুলোতে শিশুদের টিকা প্রদান প্রাণঘাতী রোগের বিরুদ্ধে মানুষকে, বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে স্বাস্থ্যখাতের যে প্রতিশ্রুতি রয়েছে তারই অংশ।”

৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া তিন সপ্তাহব্যাপী টিকাদান অভিযানে ছয় সপ্তাহ থেকে সাত বছর বয়সী প্রায় দেড় লাখ শিশুকে পাঁচ ডোজের টিকা (যা তাদের ডিপথেরিয়া, ধনুষ্টঙ্কার, হুপিং কাশি, হেমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ-বি ও হেপাটাইটিস-বি) দেওয়া হয়েছে, এবং ৭ থেকে ১৭ বছর বয়সী প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার শিশুকে ধনুষ্টঙ্কার ও ডিপথেরিয়ার (টিডি) টিকা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্প ও আশপাশের এলাকাগুলোর শিশুদের পুরোপুরি সুরক্ষিত করতে এক মাসের বিরতি দিয়ে ডিপথেরিয়ার টিকাসহ আরও দুই রাউন্ড টিকাদানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।

বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদার বলেন, “ডিপথেরিয়ায় বিশেষ করে শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সব শিশুকে টিকাদান নিশ্চিত করতে স্বেচ্ছাসেবীরা রোহিঙ্গা আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে প্রত্যেকের দরজা পর্যন্ত যাচ্ছে। অত্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক আগমন আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে মৌলিক সেবাসমূহকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করেছে। একটি খুব ঘনবসতিপূর্ণ পরিবেশে থাকা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ নেই, যে পরিবেশ তাদের স্বাস্থ্য ও জীবনের মানে প্রভাব ফেলছে। ক্যাম্পগুলোর অবস্থার উন্নতি করতে আমরা অব্যাহতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে, ডিপথেরিয়ার আরও বিস্তারের ঝুঁকি কমাতে এর টিকাদান খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর কাছে থাকা কমিউনিটিগুলোতে ডিপথেরিয়ার বিস্তার ঠেকাতে টেকনাফ ও উখিয়া উপজেলার ৪৯৯টি বিদ্যালয়ের প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার শিশুকেও টিকা দেওয়া হচ্ছে। ১ জানুয়ারি এই উদ্যোগ শুরু হয়। টিকাদান শুরু করা হয়েছে এমন একটি দিনে যে দিন শিক্ষা বছরের শুরুতে সরকারের দেওয়া বিনামূল্যের বই সংগ্রহের জন্য ব্যাপক সংখ্যক শিশু বিদ্যালয়ে হাজির হয়।

বাংলাদেশের শৈশবকালীন টিকাদান কর্মসূচির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিশুদের জীবন রক্ষাকারী টিকাদান অব্যাহত রাখার জন্য রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে টিকাদানের জন্য নির্দিষ্ট স্থান গড়ে তুলতে ডব্লিউএইচও, ইউনিসেফ ও স্বাস্থ্যখাতের অংশীদাররা বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে।

***

কক্সবাজারে ডিপথেরিয়ার বিস্তার সম্পর্কে

২০১৭ সালের ৮ নভেম্বর থেকে ২০১৮ সালের ১১ জানুয়ারির মধ্যে কক্সবাজার থেকে ডিপথেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ৩১ জনের মৃত্যু এবং ৩,৯৫৪টি সন্দেহজনক ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এই সন্দেহভাজন ঘটনাগুলোর সংস্পর্শে থাকা প্রায় ১০,৫৯৪ জনকে ডিপথেরিয়া প্রতিরোধমূলক চিকিৎসার আওতায় আনা হয়েছে।

আগামী ছয় মাসে বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর মাঝে ডিপথেরিয়ার সংক্রমণ মোকাবেলায় প্রচেষ্টা জোরদার করতে ডব্লিউএইচও তার জরুরি আপৎকালীন তহবিল থেকে দেড় মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড় করেছে।

টিকাদান কর্মসূচিকে সহায়তা দিতে; অপরিহার্য ওষুধ ও সরঞ্জাম প্রদানে; পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা, রোগী ব্যবস্থাপনা ও তাদের সংস্পর্শে থাকা মানুষগুলোর সন্ধান বের করার সক্ষমতা বাড়াতে; এবং কমিউনিটির সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে এই তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে।

ডিপথেরিয়া

ডিপথেরিয়া একটি সংক্রামক রোগ, যার উদ্ভব ব্যাকটেরিয়া থেকে, যে ব্যাকটেরিয়া প্রাথমিকভাবে গলা ও ওপরের শ্বাসনালীকে সংক্রমিত করে, এবং এক ধরনের বিষ উৎপন্ন করে যা অন্য অঙ্গগুলোর ক্ষতি করে। ডিপথেরিয়া থেকে উৎপন্ন হওয়া বিষ গলা ও টনসিলে মৃত কোষের একটি ঝিল্লি তৈরি করে, যা শ্বাস গ্রহণ ও খাবার গেলা কঠিন করে তোলে। আক্রান্ত ব্যক্তির সঙ্গে সরাসরি শারীরিক সংস্পর্শ অথবা তার কাশি বা হাঁচির মাধ্যমে এই রোগ ছড়ায়।

ডিপথেরিয়ার প্রতিরোধে টিকা নাটকীয়ভাবে মৃত্যু ও এই রোগে সংক্রমণ কমিয়েছে, যদিও বিস্তৃত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতা খুবই কম– এমন দেশগুলোতে ডিপথেরিয়া এখনও শিশু স্বাস্থ্যের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য সমস্যা। ডিপথেরিয়া প্রবণ দেশগুলোতে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বিক্ষিপ্ত ঘটনা হিসেবে এই রোগ দেখা দেয় বা এই রোগের স্বল্প বিস্তার ঘটে। ৫-১০ % ঘটনায় ডিপথেরিয়া প্রাণঘাতী, আর এক্ষেত্রে ছোট শিশুদের মৃত্যুহার বেশ উচ্চ। চিকিৎসার মধ্যে রয়েছে ডিপথেরিয়ার বিষ বা টক্সিনকে অকার্যকর করার জন্য অ্যান্টিটক্সিন প্রদান করা এবং একই সঙ্গে ব্যাকটেরিয়াকে হত্যার জন্য অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া।

ডিপথেরিয়ার ভ্যাকসিন বা টিকা হচ্ছে একটি ব্যাকটেরিয়াল টক্সাইড, অর্থাৎ একটি বিষ যার বিষাক্ততা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। এই টিকাটি সাধারণত ডিটিপি ভ্যাকসিন বা পেন্টাভালেন্ট ভ্যাকসিন বা পাঁচডোজেট টিকা সঙ্গে একত্রে দেওয়া হয়। কিশোর-কিশোরী ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রায় ক্ষেত্রেই  ডিপথেরিয়া টক্সাইডটি অল্প মাত্রায় টিটানাস টক্সাইডের সঙ্গে মেলানো হয় (টিডি ভ্যাক্সিন)।

ডব্লিউএইচও ডিপথেরিয়া টক্সাইডের সঙ্গে একটি ৩-ডোজের ধারাবাহিক প্রাথমিক টিকা এবং পরবর্তী সময়ে একটি বেশি মাত্রার টিকা প্রদানের প্রস্তাব করে।

###

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

  • জন-জ্যাকস সাইমন, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, jsimon@unicef.org+880 01713043478
  • বেঞ্জামিন স্টেইনলেচনার, ইউনিসেফ বাংলাদেশ, bsteinlechner@unicef.org, +88 01701208979
  • শামিলা শর্মা, ডব্লিউএইচও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়, sharmasha@who.int +91 9818287256
 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: