সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

ইউনিসেফ: সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের উপকারে অনলাইন সুবিধা বাড়ানোর সাথে সাথে তাদের জন্য ডিজিটাল বিশ্বকে নিরাপদ করুন

বাৎসরিক প্রতিবেদন ডিজিটাল বিভক্তিকে তুলে ধরে, শিশুদের নিরাপত্তা কল্যাণে ইন্টারনেট এবং সামাজিক গণমাধ্যমের প্রভাব সম্পর্কে চলমান বিতর্কগুলো অনুসন্ধান করে

ছবি, ভিডিও প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি ডাউনলোড করুন: http://uni.cf/2j2GvHC

 ঢাকা, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭ -আজ প্রকাশিত ইউনিসেফের বাৎসরিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে শিশুদের ব্যাপক উপস্থিতি সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী — প্রতি ৩ জন ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ১ জন শিশু — ডিজিটাল বিশ্বের বিপদ থেকে তাদের রক্ষা করতে এবং তাদের জন্য নিরাপদ অনলাইন কনটেন্ট ব্যবহারের সুযোগ বাড়াতে খুব সামান্য পদক্ষেপই নেওয়া হয়েছে।

দ্য স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ডস চিলড্রেন ২০১৭: চিলড্রেন ইন আ ডিজিটাল ওয়ার্ল্ড  (বিশ্ব শিশু পরিস্থিতি ২০১৭ – ডিজিটাল বিশ্বে শিশুরা)-শীর্ষক প্রতিবেদনটি ভিন্ন ভিন্ন যেসব উপায়ে ডিজিটাল প্রযুক্তি শিশুদের জীবন এবং সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করার পাশাপাশি বিপদ ও সুযোগগুলোকে চিহ্নিত করার ক্ষেত্রে ইউনিসেফের প্রথম বিশদ পর্যবেক্ষণ।  এতে যুক্তি দেখানো হয়েছে যে, সরকারি ও বেসরকারি খাত পরিবর্তনের গতির সঙ্গে তাল মেলাতে পারছে না, যা শিশুদের নতুন ঝুঁকি ও ক্ষতির মুখে ঠেলে দিচ্ছে এবং এতে করে সুবিধাবঞ্চিত লাখ লাখ শিশু পেছনেই পড়ে থাকছে।

ইউনিসেফের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্থনি লেক বলেন, ‘ভালো এবং খারাপ উভয় বিবেচনাতেই ডিজিটাল প্রযুক্তি এখন আমাদের জীবনের একটি অপরিবর্তনীয় সত্য। ডিজিটাল বিশ্বে প্রতিটি শিশুর জন্য ইন্টারনেটের উপকারী দিকগুলো সর্বোচ্চ মাত্রায় উন্নীত করার পাশাপাশি ক্ষতিকর বিষয়গুলো কমিয়ে আনাটাই হচ্ছে আমাদের দ্বৈত চ্যালেঞ্জ’।

ডিজিটাল প্রযুক্তি দারিদ্র্যের মধ্যে বেড়ে ওঠা বা মানবিক বিপর্যয়ের শিকার শিশুসহ সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের যেসব সুবিধা দিতে পারে তা এই প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এসব সুবিধার মধ্যে রয়েছে তাদের তথ্যপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়ানো, ডিজিটাল কর্মক্ষেত্রের জন্য তাদের দক্ষতা বাড়ানো এবং তারা যাতে ডিজিটাল প্লাটফর্ম-এ সংযুক্ত থেকে নিজেদের মতামত প্রকাশ করতে পারে সেই সুযোগ তৈরি করে দেয়া।

তবে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয় যে লাখ লাখ শিশু এসব সুবিধার বাইরে থেকে যাচ্ছে। বিশ্বের তরুণ সমাজের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৩৪৬ মিলিয়ন তরুণ অনলাইনে নেই, যা বৈষম্য বৃদ্ধিকেই নির্দেশ করছে এবং ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল অর্থনীতিতে শিশুদের অংশগ্রহণের সামর্থ্য কমিয়ে দিচ্ছে।

ব্যক্তিগত তথ্যের অপব্যবহার, ক্ষতিকর কনটেন্ট-এর ব্যবহার এবং সাইবার হুমকির শিকার হওয়াসহ ইন্টারনেট কীভাবে শিশুদের ঝুঁকি ও ক্ষতির কাছে অরক্ষিত করে তুলতে পারে সেটাও প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। মোবাইল ডিভাইসের সর্বব্যাপী উপস্থিতি অনেক শিশুকে নজরদারিহীন অবস্থায় অনলাইনে প্রবেশের সুযোগ করে দিয়েছে, যা তাদের সম্ভাব্য বিপদের মাত্রাকে আরও বাড়িয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এছাড়া পাচার এবং অনলাইনে ‘ফরমায়েশি’ (মেড টু অর্ডার) শিশু যৌন নির্যাতনসহ ডার্ক ওয়েব ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মতো ডিজিটাল নেটওয়ার্কসমূহ সবেচেয়ে খারাপ উপায়ে শোষণ ও অপব্যবহারের পথ তৈরি করছে।

প্রতিবেদনটিতে ডিজিটাল ‘আসক্তি’ সম্পর্কে ক্রমবর্ধমান বিতর্ক এবং মস্তিষ্কের বিকাশের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময় ধরে কম্পিউটার বা মোবাইলের স্ক্রীনে মনোনিবেশ করার সম্ভাব্য প্রভাব অনুসন্ধানের মাধ্যমে শিশুদের ইন্টারনেট ব্যবহারের বিষয়ে বর্তমান তথ্য এবং বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও যেসব তথ্য উঠে এসেছে সেগুলো হচ্ছে:

  • বিভিন্ন বয়সী মানুষের মধ্যে তরুণরাই অনলাইনে সবচেয়ে বেশি সংযুক্ত থাকে। বিশ্বব্যাপী মোট জনসংখ্যার ৪৮ শতাংশ যেখানে অনলাইনে সংযুক্ত, সেখানে তরুণদের মাঝে এ হার ৭১ শতাংশ।
  • সবচেয়ে কম সংযুক্ত আফ্রিকার তরুণ জনগোষ্ঠী, যাদের প্রতি পাঁচজনের মধ্যে তিনজনই অনলাইনে নেই, যেখানে ইউরোপে প্রতি ২৫ জন তরুণের মধ্যে মাত্র একজন অনলাইনের বাইরে রয়েছে।
  • বিশ্বের সব ওয়েবসাইটের প্রায় ৫৬ শতাংশ ইংরেজি ভাষায় এবং অনেক শিশুই এমন কনটেন্ট খুঁজে পায় না, যা তারা বুঝতে পারে অথবা যা তাদের জন্য সাংস্কৃতিকভাবে প্রাসঙ্গিক।
  • শিশুদের যৌন হয়রানি করে বৈশ্বিকভাবে শনাক্ত করা এমন প্রতি ১০টি ইউআরএলের মধ্যে ৯টিরও বেশি পরিচালিত হয় পাঁচটি দেশ থেকে। দেশগুলো হলো কানাডা, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, রাশিয়ান ফেডারেশন ও যুক্তরাষ্ট্র।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকার, বেসরকারি খাত, শিশু সংস্থা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পরিবার ও শিশুদের নিজেদের সম্মিলিত উদ্যোগই কেবল ডিজিটাল ক্ষেত্রে সমতা বিধান করতে পারে এবং শিশুদের জন্য ইন্টারনেটকে আরও নিরাপদ ও ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে পারে।

শিশুদের উপকারে আরও কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নে সহায়তা করতে বাস্তবসম্মত সুপারিশমালা এবং আরো দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক কার্যকলাপসমূহের মধ্যে রয়েছে:

  • উচ্চ মানসম্পন্ন অনলাইন উপকরণসমূহে সব শিশুকে সুলভে প্রবেশাধিকার প্রদান।
  • অপব্যবহার, শোষণ, পাচার, সাইবার হুমকি ও অপ্রযোজ্য উপকরণের মুখোমুখি হওয়াসহ অনলাইনে শিশুদের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া থেকে সুরক্ষিত রাখা।
  • অনলাইনে শিশুদের গোপনীয়তা ও পরিচয় সুরক্ষিত রাখা।
  • শিশুদের অবহিত, সম্পৃক্ত ও অনলাইনে নিরাপদ রাখার জন্য তাদের ডিজিটাল বিষয়গুলো শেখানো।
  • নৈতিক মান ও কার্যকলাপসমূহ এগিয়ে নিতে বেসরকারি খাতের শক্তিকে কাজে লাগানো, যা অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষা এবং সুবিধা প্রদান করে।
  • ডিজিটাল নীতিমালার কেন্দ্রে শিশুদের রাখা।

লেক বলেন, ‘ইন্টারনেট তৈরি করা হয়েছিল প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য, তবে ক্রমবর্ধমান হারে শিশু ও তরুণরা এটি ব্যবহার করছে এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি প্রতিনিয়ত তাদের জীবন ও ভবিষ্যৎকে প্রভাবিত করছে। তাই ডিজিটাল নীতিমালা, কার্যকলাপ ও পণ্যসমূহে শিশুদের চাহিদা, শিশুদের দৃষ্টিভঙ্গি এবং শিশুদের কথাই প্রতিফলিত হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়’।

#####

 

ইউনিসেফ সম্পর্কিত

বিশ্বের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের কাছে পৌঁছাতে বিশ্বের সবচেয়ে কঠিন কিছু স্থানে কাজ করে ইউনিসেফ। প্রত্যেকের জন্য আরও ভালো একটি বিশ্ব বিনির্মাণে আমরা ১৯০টি দেশ ও অঞ্চলজুড়ে সর্বত্র সব শিশুর জন্য কাজ করি। ইউনিসেফ এবং শিশুদের জন্য এর কার্যক্রম সম্পর্কে আরো তথ্যের জন্য ভিজিট করুন www.unicef.org। ইউনিসেফকে অনুসরণ করুন Twitter ও Facebook-এ।

আরও তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন:

  • জর্জিনা থমসন, ইউনিসেফ নিউইয়র্ক, ফোন: +১ ৯১৭ ২৩৮ ১৫৫৯, gthompson@unicef.org
  • এএম সাকিল ফায়জুল্লাহ, ইউনিসেফ বাংলাদেশ,asfaizullah@unicef.org +880 1713 049900
  • ফারিয়া সেলিম, ইউনিসেফ বাংলাদেশ,fselim@unicef.org +880 1817 586 096
 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: