বাংলাদেশে জরুরি সহায়তার ব্যাপ্তি বাড়াচ্ছে ইউনিসেফ

ঢাকা, ৩১ আগস্ট ২০১৭: বাংলাদেশের বন্যা উপদ্রুত উত্তরাঞ্চল ও মধ্যাঞ্চলে জরুরি সহায়তা কার্যক্রম বাড়াচ্ছে ইউনিসেফ ও তার সহযোগীরা। সম্প্রতি কক্সবাজারে স্রোতের মতো ঢুকতে থাকা রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্যদেরও জরুরি সহায়তা দিচ্ছে ইউনিসেফ। বন্যা ও বাস্তুচ্যুত শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এবং টিকে থাকতে ও মানসিক ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে তাদের সহায়তা প্রয়োজন।
ইউনিসেফ বাংলাদেশের প্রতিনিধি এডুয়ার্ড বেগবেদার বলেন, “জরুরি অবস্থায়, তা সে বন্যা বা ব্যাপক জনসমাগম— যাই হোক না কেন, ধকলটা শিশুদের ওপর দিয়ে যায় সবচেয়ে বেশি। এমন পরিস্থিতিতে সহিংসতা, নির্যাতন, দীর্ঘস্থায়ী অসুখ ও সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও শিশুদেরই বেশি। যেহেতু শিশুরাই সবচেয়ে বেশি দুর্দশার শিকার হচ্ছে, তাই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে ইউনিসেফ শিশুদের জন্য শিক্ষা, হাইজিন, পুষ্টি, স্বাস্থ্য ও শিশু সুরক্ষা খাতে মানবিক সহায়দা প্রদান অব্যাহত রাখবে ও জোরদার করবে।”
পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট, পরিচ্ছন্নতা সামগ্রী, পানির পাত্র ও ব্লিচিং পাউডার দিয়ে বন্যার্ত ১৫ লাখ মানুষের দুর্দশা লাঘবে সরকারকে সহায়তা করছে ইউনিসেফ। শিক্ষা ব্যবস্থা পুনরায় চালু করার বিষয়েও ইউনিসেফ কাজ করছে, যা শুরু হবে বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর।
একই সময়ে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের সদস্য এবং তাদের আশ্রয়দাতাদের চাহিদা নিরূপণে কাজ করছে ইউনিসেফ। রোহিঙ্গা শিশু ও কিশোরদের জন্য ইউনিসেফ এরই মধ্যে আটটি শিশুবান্ধব স্থান নির্মাণ করেছে, যেখানে শিশুদের মানসিক ও বিনোদনমূলক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র ও স্থানীয় দুর্গম এলাকাগুলোতে আশ্রয় নেওয়া অপুষ্টিতে আক্রান্ত শিশুদের আলাদা করার উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ইউনিসেফ ৯ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের হাম ও রুবেলার টিকাদান কর্মসূচি চালু করেছে। বর্তমানে এলাকাগুলোতে ১৫ হাজার দুইশ’র বেশি মানুষ নিরাপদ খাবার পানি পাচ্ছে এবং ৯ হাজার ৭০০ মানুষকে উন্নত স্যানিটেশন সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে রোহিঙ্গাদের ব্যাপক আগমনে; যাদের ৮০ শতাংশেরও বেশি শিশু ও নারী; চাহিদা আরও বেড়েছে এবং ইউনিসেফ বাড়তি সহায়তা প্রদান ও বিদ্যমান কার্যক্রম জোরদার করতে কাজ করে যাচ্ছে। নতুন আসা রোহঙ্গিা শিশুদের বিনোদনমূলক ও মানসিক সহায়তা প্রদানে বর্তমানে ৩৩টি ভ্রাম্যমাণ শিশুবান্ধব কেন্দ্র পরিচালনা করা হচ্ছে, যেখানে শতাধিক বিনোদনমূলক উপকরণ, জরুরি শিক্ষা উপকরণ (ইআইই) ও প্রশিক্ষিত শিক্ষক রয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে এসব ভ্রাম্যমাণ শিশুবান্ধব কেন্দ্রের মাধ্যমে ইতিমধ্যে নতুন করে আসা ২২৬ জন রোহিঙ্গা শিশুকে মানসিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ইউনিসেফ হাইজিন উপকরণ ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণেও প্রস্তুত।
বন্যা আক্রান্ত জেলাগুলোতে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ লাখ ৩০ হাজার মানুষকে লক্ষ্য করে একটি মানবিক সহায়তা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যার অংশ হিসেবে ৮ লাখ ডলার চাওয়া হয়েছে। তবে সম্প্রতি ব্যাপকহারে রোহিঙ্গা শিশু ও তাদের পরিবারের আগমন ঘটায় ২০১৭-১৮ বছরের জন্য ইউনিসেফের সহায়তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে অন্তত ৫০ লাখ ডলার বাড়াতে হবে।

 
Search:
For every child
Health, Education, Equality, Protection
ADVANCE HUMANITY
Search: